ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাবার ফেরার অপেক্ষায় অবুঝ শিশু, আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাভেল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 6, 2026 ইং
  • পঠিত: ২০৫ বার
Overlay/Verification
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈন্যরটেক এলাকার একটি সাধারণ ঘর আজ যেন নিস্তব্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ঘরে কিছুদিন আগেও দেড় বছরের একটি শিশুর হাসি আর তার বাবার স্নেহময় উপস্থিতিতে মুখর থাকত চারপাশ, সেই ঘর এখন নীরব, ভারী আর অপেক্ষার প্রহর গুনছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তরুণ উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম পাভেল গত ১২ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় অসাবধানতাবশত পিছলে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম নগরের ইমপেরিয়াল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাথায় আঘাতজনিত কারণে তার মস্তিষ্কে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। প্রতিটি মুহূর্ত যেন অনিশ্চয়তায় ভরা। হাসপাতালের আইসিইউর কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে স্ত্রী, মা-বাবা এবং স্বজনরা শুধু অপেক্ষা করছেন—হয়তো কোনো একসময় চোখ খুলবেন পাভেল, আবার ডাকবেন তার সন্তানকে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সবচেয়ে করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে পাভেলের দেড় বছরের শিশুকে ঘিরে। অবুঝ এই শিশুটি এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি তার বাবা কী অবস্থায় আছেন। সে প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে, বাবার কোলে ওঠার অপেক্ষায় থাকে। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি মাঝে মাঝে বাবার নাম ধরে ডাকার চেষ্টা করে, কিন্তু তার সেই ডাক আর কোনো সাড়া পায় না। এই দৃশ্য পরিবারের সদস্যদের হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাভেল স্থানীয়ভাবে ছোট একটি ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালাতেন। সীমিত আয়ে হলেও সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ এই দুর্ঘটনা সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসার পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা বহন করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের সঞ্চয়, জমি এবং মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়েছে। এখন তারা কার্যত নিঃস্ব অবস্থায় দিন পার করছেন। পাভেলের বড় ভাই ও স্বজনরা জানান, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তারা বলেন, “পাভেল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। আমরা চাই সে আবার সুস্থ হয়ে তার সন্তানের কাছে ফিরে আসুক। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের সবার কাছে আমরা সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।” স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, পাভেল একজন পরিশ্রমী ও ভদ্র মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার এই অবস্থায় সবাই শোকাহত এবং তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। এখন একটি পরিবারের শেষ আশা সমাজের মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা। সবার সামান্য সহায়তাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর বাবাকে, একটি স্ত্রীর স্বামীকে এবং একটি পরিবারের একমাত্র আশ্রয়কে। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আবার হাসিতে ভরে উঠবে সেই নিস্তব্ধ ঘর, ফিরে আসবে পাভেল তার আপনজনদের মাঝে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স