ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত: আহত অন্তত ৬৬, উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বিঘ্নিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 18, 2026 ইং
  • পঠিত: ২১৬ বার
Overlay/Verification
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনের কাছে বাগবাড়ি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লোকোমাস্টার (ট্রেন চালক) লাল সংকেত বা লাল নিশানা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান অতিক্রম করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ৪৮ জনকে উদ্ধার করেছেন, তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হিসাবে আহতের সংখ্যা ৬৬। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের নওগাঁ সদর হাসপাতাল, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য কাছাকাছি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেউ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাগবাড়ি এলাকায় ১৫-২০ দিন ধরে রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। সকাল থেকে অন্যান্য ট্রেনগুলো গতি কমিয়ে বা দাঁড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান অতিক্রম করছিল। লাল নিশানা টাঙানো ছিল। নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার জংশনে যাত্রাবিরতির পর ছেড়ে যায় এবং সান্তাহারের প্রায় ২-৩ কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়িতে পৌঁছালে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ছাদে থাকা অনেক যাত্রী নিচে পড়ে গিয়ে আহত হন, ভেতরের যাত্রীরাও আঘাত পান।

সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। দুর্ঘটনার পর এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পার্বতীপুর ও ঈশ্বরদী থেকে দুটি উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধারকাজ চলছে, এবং লাইন সচল হতে ৮-১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহাম্মেদ হোসেন মাসুম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাকশী রেলওয়ে বিভাগের যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনুদ্দিন সরকারকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের অন্তত ৫ জেলা—নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঈদযাত্রায় আটকে পড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে বাস, অটোরিকশা বা অন্যান্য যানবাহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রেনের বগিগুলো আঁকাবাঁকা হয়ে পড়ে আছে, কয়েকটির চাকা লাইন ছেড়ে পাথরের ওপর উঠে গেছে এবং রেললাইন উপড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অনেকের হাত-পা ভেঙেছে, মাথা কেটেছে।

রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক ইনফো বাংলা

কমেন্ট বক্স