শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জিও নিউজের একটি অনুষ্ঠানে আসিফ আরও বলেন, আলোচকরা উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আপাতত বহাল রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারি যে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান আলোচনা শেষ।’
এর আগে, কর্মকর্তা এবং সূত্র জানিয়েছিল, যে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা স্থগিত হয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার আলোচনা অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আফগান তালেবান প্রতিনিধিদল কোনো কর্মসূচি ছাড়াই ইস্তাম্বুলে এসেছে এবং তারা লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি নয়। তারা বলেছে যে, কেবল মৌখিক চুক্তিকে সম্মান করবে। তবে তা করার কোনো সুযোগ নেই।’
আসিফ আরও বলেন, আগের রাউন্ডগুলোতে আলোচকরা আরেকবার বৈঠকে বসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ইস্তাম্বুলে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরেও, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা পরবর্তী রাউন্ডে অংশগ্রহণ করবেন।’
আসিফ বলেন, ‘আমাদের খালি হাতে ফিরে আসা আফগানিস্তানের প্রতি বিশ্বাসের অভাবকে বোঝায়। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, যদি তাদের মাটি থেকে আমাদের উপর আক্রমণ হয়, তাহলে পরিস্থিতির গুরুত্বের উপর নির্ভর করে আমরা জবাব দেব।’
এ সময় আসিফ স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধবিরতি আপাতত কার্যকর থাকবে। কিন্তু সতর্ক করে বলেন, যখন তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হবে, তখন আমরা যথাযথ জবাব দেব।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, পাকিস্তানের একটি প্রধান দাবি হলো, আফগান মাটি থেকে ইসলামাবাদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।
এদিকে, আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে বলেছেন, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসহযোগী মনোভাব এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী।
অক্টোবরের গোড়ার দিকে সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষের পর, তুরস্ক এবং কাতার মধ্যস্থতা করার জন্য এগিয়ে আসে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক ইনফো বাংলা
দৈনিক ইনফো বাংলা