স্মৃতিচারণ ও শেষকৃত্যানুষ্ঠানে বক্তাদের অভিমত-ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Feb 8, 2026 ইং
-
পঠিত: ৮৬ বার
একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশের প্রখ্যাত ছড়াকার, ছড়াসম্রাট সুকুমার বড়ুয়া তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব বাঙালির বুকে আজীবন বেঁচে থাকবেন। সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন, ছড়া সাহিত্যে সৃষ্টি করেছেন এক নতুন ধারা। গতকাল ৫ জানুয়ারি তাঁর জন্মভূমি রাউজান উপজেলাধীন মধ্যম বিনাজুরী গ্রামের মিলনারাম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে ছড়াসম্রাট সুকুমার তরুণ সংঘ কর্তৃক আয়োজিত স্মৃতিচারণ ও শেষকৃত্যানুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। বক্তারা বলেন- তিনি শুধু বিনাজুরী গ্রাম, রাউজান কিংবা চট্টগ্রামকে ধন্য করেননি, তিনি সমগ্র বাংলাদেশ তথা বাংলার সাহিত্য জগতকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি যে দিন জন্ম নিয়ে বিনাজুরি গ্রামকে আলোকিত করেছেন আজকে আবার সেই দিনেই তিনি এ গ্রাম থেকে স্বশরীরে বিদায় নিচ্ছেন, যা সকলের কাছে অত্যন্ত বেদনার।
বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান ধর্মগুরু উপ-সংঘরাজ ভদন্ত প্রিয়দর্শী মহাথের’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন মধ্যম বিনাজুরি মিলনারাম বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত বিনয়পাল মহাথের, পারিবারিক পরিচিত তুলে ধরেন ভদন্ত রাষ্ট্রপাল ভিক্ষু। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশনেন- বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান গকুল কান্তি বড়ুয়া, ভদন্ত শাসনানন্দ মহাথের, সৌগত সম্পাদক সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু, বিএনপি নেতা সাথী উদয়কুসুম বড়ুয়া, শিশু সাহিত্যিক উৎপলকান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, লেখক-সংবাদকর্মি বিপ্লব বড়ুয়া, বুদ্ধপাল ভিক্ষু, শাসনশ্রী মহাথের, শিশু সাহিত্যিক নান্টু বড়ুয়া, উত্তম বড়ুয়া, জাপান বড়ুয়া, জয়সেন বড়ুয়া, আশীষ বড়ুয়া, সঞ্জয় বড়ুয়া, ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার ছোট মেয়ের জামাতা মিল্টন বড়ুয়া প্রমুখ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার একমাত্র পুত্র সন্তান প্রকৌশলী অরুপরতন বড়ুয়া। সঞ্চালনায় ছিলেন- ভদন্ত জয়পাল ভিক্ষু ও প্রসেনজিৎ বড়ুয়া।
প্রয়াতের শবদেহে পুস্পমাল্য ও ব্যানার দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেছেন- চট্টগ্রাম একাডেমি, স্বকাল শিশু সাহিত্য সংসদ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বেগম রোকেয়া পাঠাগার, রাইজিং ব্রাদার্স, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরাম, ত্রয়োদশ সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদ, অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, চারুলতা, চারুআড্ডা, আলোড়ন পাঠাগার, সীবলী সংসদ চট্টগ্রাম, মৈত্রী হাউজিং সোসাইটি, পূর্ব ইদিলপুর বনভান্তে ভাবনাকেন্দ্র ও শ্মশানভূমি উন্নয়ন কমিটি, বুড্ডিষ্ট ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপ গ্রুপ, বিনাজুরি ইউনিয়ন বৌদ্ধ কল্যান ফাউন্ডেশন , মধ্যম বিনাজুরি মিলনারাম বিহারের দায়ক-দায়িকা, মধ্যম বিনাজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমদাদ চেয়ারম্যান ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, মধ্যম বিনাজুরি সুকুমার তরুণ সংঘ, কঠোরপাড় বৌদ্ধ কল্যান সমিতি, বুদ্ধজ্যোতি আন্তর্জাতিক সংস্থা, পূর্ব ইদিলপুর পূর্ণানন্দ বৌদ্ধ বিহার কমিটির নেতৃবৃন্দসহ আরো বহু সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া ২ জানুয়ারি ভোরে মৃত্যুবরণ করেন। পরেরদিন চট্টগ্রাম শহরের চেরাগীর মোড় ও দৈনিক আজাদী পত্রিকা অফিসের সামনে ছড়াকারের মরদেহ নিয়ে আসা হলে অসংখ্য লেখক, কবি-সাহিত্যিক, সংস্কৃতি কর্মি ও বিভিন্ন পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন এবং ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তাঁর দাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়। দাহকার্যের পূর্বে ছড়াসম্রাট সুকুমার তরুণ সংঘের সদস্য ও গ্রামবাসী সকলে মিলে প্রয়াত ছড়াকারের মরদেহ পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Utfal Barua
কমেন্ট বক্স