রাউজানের পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরযানের ভিড় : নিয়ম মেনে বিক্রি হচ্ছেনা জ্বালানি
প্রকাশিত: 09:12 সকাল, 18 মার্চ 2026
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ। দেশে অকটেন এবং পেট্রোলের উৎপাদন থাকলেও তেলের সংকট হতে পারে এই আশঙ্কা থেকে দেশের অন্যান্য স্থানের মত চট্টগ্রামের রাউজানের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও ভিড় করছে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। শনিবার (৭মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের জলিলনগরস্থ দুটি পাম্পে দেখা যায় মোটরযানের দীর্ঘ লাইন। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের দুপাশে এই দুই পাম্পের অবস্থান হওয়ায় এই ভিড় আরো বেড়েছে। তবে, জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি কর্তৃক গাড়ির ধরন অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও রাউজানের পাম্পগুলোতে নিয়ম মেনে বিক্রি হচ্ছেনা জ্বালানি তেল।
একটি মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন/পেট্রোল কেনা যাবে বলা থাকলেও বিক্রি করা হচ্ছে মাত্র ১শ টাকার করে। যা ১ লিটারেরও কম। জিপ/ মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন/পেট্রোল, পিকআপ/লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল, দূরপাল্লার বাস/ ট্রাক/কার্ভাডভ্যান/ কনটেইনার ট্রাকের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ লিটার করে। উপজেলার মুন্সিরঘাটা, মেডিকেল বটতল, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে আরেক অনিয়ম। সেখানে আগে থেকে মজুত করে রাখা অকটেন বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা করে।
ইসহাক ফিলিং স্টেশনের মালিক পক্ষের দায়িত্বশীল মো.আরিফ বলেন গতরাত পর্যন্ত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অকেটেন নিয়ে গেছে অনেকেই। আমরা কমপক্ষে ৫শ টাকার পর্যন্ত দিয়েছি। আজ শনিবার ১শ টাকার করে বিকেল ৩টা ২০মিনিট পর্যন্ত দিয়েছি। এখন আমাদের অকটেন শেষ। কেউ চাইলেও আর দিতে পারছিনা। সরবারাহ না আসা পর্যন্ত আমাদের পাম্পে অকটেন হবেনা।
জানে আলম চৌধুরী পেট্রোল পাম্পে বিকেল পর্যন্ত লক্ষ্য করা গেছে মোটরসাইকেল প্রতি ১০০ টাকার করে অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। এই পাম্পের এক কর্মচারী জানান, সরবরাহ নেই তাই ১০০ টাকা করে প্রতি মোটর সাইকেলে বিক্রি করছি।
এসব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক জহির উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্দেশনায় ২ লিটার করে অকটেন দেওয়ার কথা থাকলেও দিচ্ছে ১শ টাকার। এখানে ১ লিটারও হবেনা। হলদিয়া ফুফুর বাড়িতে ইফতারি নিয়ে যাচ্ছি। এইটুকু তেল দিয়ে গিয়ে আবার ফিরতে পারবো কিনা জানিনা। এই সুযোগে বিভিন্ন দোকানে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। দেখি এমন কোন দোকান থেকে নিতে পারি কিনা।
মো.জাফর নামে এক ট্রাক চালক বলেন অনেকক্ষণ হলো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তারা (ফুয়েল স্টেশন কর্তৃপক্ষ) বলছেন আমাদের ১০লিটার করে দিবে। এখন আমাদের মালামাল নিয়ে সময়মত পৌঁছানো মুশকিল হবে।
এই বিষয়ে রাউজান উপজো নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম রাহাতুল ইসলাম বলেন নিয়ম অমান্য করে কেউ জ্বালানি বিক্রি করলে বা সুযোগের অসৎ ব্যবহার করলে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।