কর্ণফুলীতে যুবকের আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রকাশিত: 07:01 বিকাল, 15 এপ্র 2026
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে মাদকাসক্তির বিষয়টি, যা ঘটনাটির পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খুইদ্দারটেক এলাকায় ভেংগে গৌষ্টির বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ রুবেল (২৬) পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সেলিম ও নুর জাহানের প্রথম পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রুবেল নিজ ঘরে গামছা দিয়ে ফাঁস নেন। বিকালে মা ও বোন খাবারের পানি সংগ্রহ করে ফিরে আসে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের মা' নুর জাহান জানান, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতাশায় ভুগতেন। তিনি বলেন, “নেশার কারণে ওর আচরণ দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। হয়তো রাগ-অভিমান বা হতাশা থেকেই এমন কাজ করেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, রুবেলের মাদক গ্রহণের অভ্যাস ছিল এবং এ কারণে তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। তাদের মতে, এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”
চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বারবার দেখছি, মাদকের কারণে তরুণরা বিপথে যাচ্ছে। পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনেরও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।”