লালদিঘীতে ইতিহাসের ছোঁয়া, জব্বারের নামে চত্বর উদ্বোধন
চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দান সংলগ্ন মোড় নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী বলীখেলার প্রবর্তক মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরের নামে মোড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘আবদুল জব্বার চত্বর’। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গড়ে তোলা এ চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে বলীখেলার স্মারক টেরাকোটা শিল্পকর্ম, যা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টি কাড়ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে চত্বরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে লালদিঘীর পাড়ে অবস্থিত চসিক লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ১১৭তম আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন।
অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “লালদিঘী মোড়কে ‘জব্বারের মোড়’ নামকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা চত্বরটিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও বলেন, “১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের ধারাবাহিকতায় এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের ১১৭তম জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বৈশাখী মেলা। ২৫ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত বলীখেলা। ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যে মেলা শেষ হবে। এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
এবারের আয়োজনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও র্যাবের তত্ত্বাবধানে থাকবে কঠোর নজরদারি। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে, স্থাপন করা হবে ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথেও নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় থাকবে মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিস।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, “বলীখেলার এই ঐতিহ্যকে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে কাজ করছি।” তারা মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি চট্টগ্রামে একটি বলীখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান।
ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী ময়দান ঘিরে এই আয়োজন প্রতি বছরই চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক বিশেষ উৎসবে পরিণত হয়। নতুন করে ‘আবদুল জব্বার চত্বর’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্যে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি নামকরণ নয়—বরং চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।