স্কুল মাঠে কোরবানির পশুর হাট, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী আব্দুল জলিল চৌধুরী কৃষি স্কুল ও ডিগ্রি কলেজের খেলার মাঠে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে মাঠটিতে কোরবানির গরুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটির মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের একমাত্র উন্মুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই মাঠে পশুর হাট বসানো হলে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে।সোমবার সকাল থেকে মাঠে বাঁশ ও অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্তকে “দুঃখজনক” ও “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেন।স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “এই মাঠে এলাকার ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন খেলাধুলা করে। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও সামাজিক অনুষ্ঠানও এখানে হয়। এখন যদি এখানে গরুর হাট বসানো হয়, তাহলে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হবে। পশুর বর্জ্য, ময়লা ও দুর্গন্ধে মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।”একজন অভিভাবক মোঃ হারুনুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্কুলের মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য। সেখানে পশুর হাট বসানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।”স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, কর্ণফুলীতে খেলার মাঠের সংখ্যা খুবই সীমিত। এর মধ্যে স্কুল মাঠগুলোই তরুণদের খেলাধুলার প্রধান ভরসা। সেখানে পশুর হাট বসানো হলে মাঠের ঘাস ও অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।কর্ণফুলীর ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মোঃ ফরিদ বলেন, “খেলার মাঠ এমনিতেই কমে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলামুখী করতে যেখানে আরও মাঠ প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যমান মাঠে পশুর হাট বসানো হতাশাজনক। প্রশাসনের উচিত ছিল বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করা।”তবে হাটের ইজারাদার পক্ষ বলছে, প্রশাসনের অনুমোদন নিয়েই অস্থায়ীভাবে বাজার বসানো হচ্ছে। হাট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন প্রতিনিধি মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, “ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর চাহিদা বেড়েছে। মহাসড়কের পাশে যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পশুর বাজার না বসে এবং যানজট সৃষ্টি না হয়, সে কারণে নির্ধারিত জায়গায় অস্থায়ী বাজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজার শেষে মাঠ পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি। পশুর বর্জ্য অপসারণ, জীবাণুনাশক ছিটানো এবং মাঠ সংস্কারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যেন যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই স্বল্প সময়ের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজার শেষে মাঠ পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং যাতে শিক্ষা কার্যক্রম বা মাঠের স্থায়ী ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে।”তবে স্থানীয়দের একাংশ প্রশাসনের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, যানজট নিরসনের যুক্তি দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, ঈদের আগে পশুর হাটের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গার সংকট রয়েছে। আবার অনেকে মনে করছেন, অস্থায়ী হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ এ ধরনের বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।