শিকলবাহায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪, আশঙ্কাজনক আরও কয়েকজন

প্রকাশিত: 01:19 রাত, 13 সেপ্ট 2026
(ফলোআপ)
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলীর শিকলবাহা চৌমুহনীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে শিকলবাহা চৌমুহনীতে ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যানের (চট্টমেট্রো ল-১১-৪৪৭৪) সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয় দ্রুতগতিতে আসা একটি মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো-১২-৯৫১৬)। সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান দুজন—মো. ফেরদৌস আলম (৫৫) ও মিফতা (১৭)। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকি সাতজনকে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে মাইক্রোবাসের চালক মুন্নাকে (৪০) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ওসি নুর আহমদ জানান, আজ সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক আরোহী মোরশেদ হোসেন (২২)। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল চারে।
মাইক্রোবাসটি আগ্রাবাদের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। গাড়িতে চালকসহ মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন—৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং একজন চালক। দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান দুজন—কক্সবাজার ঈদগাহ মাইজপাড়ার বাসিন্দা মীর কাশেম (৬০) ও শামসুল আলম (৫৫)। তাঁরা শারীরিকভাবে তুলনামূলক সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাকিদেরও অবস্থা গুরুতর।
দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন কাভার্ডভ্যানের চালক ও তাঁর সহকারী। ওসি নুর আহমদ জানান, পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শিকলবাহা চৌমুহনী দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। ইউটার্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও গতিনিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তাঁদের। এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ ও ইউটার্ন পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।