দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপ রূপ নিল স্থল গভীর নিম্নচাপে
বঙ্গোপসাগরে উৎপত্তি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি শক্তি হারিয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপালপুরের কাছ দিয়ে ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে উপকূলীয় ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালী ও খেপুপাড়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। সেদিন রাতেই লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেয়। এরপর বৃহস্পতিবার এটি রূপ নেয় গভীর নিম্নচাপে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার রাতের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল আমবাগানে; ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে; ২৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।