বাংলাদেশ উপকূলের কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত
প্রকাশিত: 11:13 দুপুর, 18 মার্চ 2026
ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’। এটি বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং ক্রমেই বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
বিডব্লিউওটির এক পোস্টে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে মঙ্গলবার ও বুধবার সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। যদিও ‘মন্থা’ সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না, তবে এর বৃষ্টিবলয় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে এটি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রের কাকিনাড়া ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এ সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ কারণে ভারতের তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূল থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম ও হেল্পলাইন নম্বর।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র প্রভাবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মন্থা’ সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না করলেও এর বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জলোচ্ছ্বাস, বৃষ্টিপাত ও সাময়িক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।