উৎসবমুখর আবহে ভোট আজ, শঙ্কা কাটাতে ইসির সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

প্রকাশিত: 07:17 সকাল, 18 মার্চ 2026
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে প্রস্তুত। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ, প্রত্যাশা ও উত্তেজনা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত অনেক ভোটারের কাছে এবারের নির্বাচন এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন ভোটের আমেজ, চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নির্বাচন। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ—সবকিছুতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানুষবিহীন আকাশযান (ইউএভি) দিয়ে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মাঠে মোতায়েন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে দিয়াশলাই, লাইটার বা কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা গেলেও গোপন কক্ষে তা ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তাৎক্ষণিক রিপোর্ট ও সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ। এবারের নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে। কয়েকশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক ও বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন বলছে, পর্যবেক্ষকদের অবাধ চলাচল ও তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। বিভিন্ন দল ও জোট নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল নিয়ে শঙ্কার কথাও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। এসব শঙ্কা কাটাতে নির্বাচন কমিশন কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক করে ইসি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সব মিলিয়ে উৎসব, উত্তেজনা ও সতর্কতার সমন্বয়ে শুরু হলো বহুল আলোচিত এই নির্বাচন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে দেশের আগামী দিনের পথচলা।