ঝুঁকিপূর্ণ তারের জট, টেরিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Mar 19, 2026 ইং
-
পঠিত: ৩৩৮ বার
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা টেরিবাজারে একটি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আগুনের চেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠে এর ঘন ধোঁয়া, যা থেকে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে প্রাণ হারান দুই ব্যক্তি। বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে.বি. অর্কিড প্লাজা নামে বহুতল মার্কেটের ৪র্থ তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন পটিয়া উপজেলার বুধপুরা এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) এবং পাঁচরিয়া এলাকার সোলাইমান (২৮)। আহত হয়েছেন মোহাম্মদ মামুন (২৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, ফলে অনেকেই দ্রুত বের হতে পারলেও ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজন শ্বাসকষ্টে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মার্কেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত বিভিন্ন টেইলার্স কারখানার কর্মীরা জানান, হঠাৎ করে নিচতলায় আগুন লাগার পর ধোঁয়া দ্রুত উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কাজ করা শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নিচে নেমে আসতে সক্ষম হলেও মোহাম্মদ ইউনুস ও সোলাইমান ধোঁয়ার মধ্যে পড়ে যান। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত অবস্থায় আনা দুইজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং আরও একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নন্দনকানন ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এ ঘটনায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল বলছেন, এই অগ্নিকাণ্ড শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ফল। মার্কেটজুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক তার, অপরিকল্পিত সংযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে বহুদিন ধরে। তারা মনে করেন, সময়মতো এসব সমস্যা সমাধান করা হলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
এই ঘটনা আবারও নগরীর পুরোনো বাণিজ্যিক মার্কেটগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরিদর্শন, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের এই মর্মান্তিক ঘটনায় টেরিবাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana
কমেন্ট বক্স