ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উড়াল দিলো ‘আর্টেমিস-২’: ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের পথে মানুষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 2, 2026 ইং
  • পঠিত: ২০৩ বার
Overlay/Verification
দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। অবশেষে চাঁদের উদ্দেশে ডানা মেললো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ঐতিহাসিক মিশন ‘আর্টেমিস-২’। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চারজন নভোচারী নিয়ে সফলভাবে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে শক্তিশালী এই মহাকাশযানটি। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর, এটিই মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান।

চাঁদকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন চার অভিজ্ঞ নভোচারী। তারা হলেন— মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির (সিএসএ) মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। এই মিশনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো নারী (ক্রিস্টিনা কচ) এবং কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী (ভিক্টর গ্লোভার) চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার অনন্য ইতিহাস গড়লেন। এছাড়াও জেরেমি হ্যানসেন হলেন প্রথম নন-আমেরিকান নভোচারী, যিনি এই চন্দ্রাভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

নাসার তথ্যমতে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ৩২ তলা সমান উচ্চতার বিশালকায় স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের মাধ্যমে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলটি মহাকাশে পাঠানো হয়। উৎক্ষেপণের পর সফলভাবে পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে পৌঁছায় ক্যাপসুলটি[ । প্রায় ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন এবং লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন। তবে তারা চাঁদের বুকে অবতরণ করবেন না। চাঁদকে পাশ কাটিয়ে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি’ বা স্বয়ংক্রিয় প্রত্যাবর্তন পথ অনুসরণ করে তারা আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন।

নাসার ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণায় আর্টেমিস-২ মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করে ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের বুকে মানুষের পা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রেও এই চন্দ্রাভিযানকে একটি বড় পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটটি উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত হাজার হাজার দর্শনার্থী এবং নাসার কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় আর্টেমিস-২ মিশন মহাকাশযাত্রার এক নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অনন্য মাইলফলক।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক ইনফো বাংলা

কমেন্ট বক্স