ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জীবন-জীবিকা সংকটে সাম্পান শ্রমিক, সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরলেন নির্যাতনের চিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 13, 2026 ইং
  • পঠিত: ৫২ বার
Overlay/Verification
জীবন-জীবিকা সংকটে সাম্পান শ্রমিক, সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরলেন নির্যাতনের চিত্র চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী-কে ঘিরে তেলবাহী লাইটার জাহাজে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারাপার সেবায় নিয়োজিত সাম্পান শ্রমিকরা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীকেন্দ্রিক এই পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা তাদের জীবিকা ও অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাঙ্গারচর ও পতেঙ্গা ওয়েল ট্যাংকার কর্মচারী পারাপার সাম্পান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সরকার স্বীকৃত (রেজি নং-২৩৭০) এই সংগঠনের নেতারা জানান, কর্ণফুলী নদীর ৭ নম্বর থেকে ১১ নম্বর ঘাট পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে সাম্পান শ্রমিকরা লাইটার জাহাজে কর্মরতদের পারাপার, জাহাজে রশি বাঁধাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, আরএম-৩ ও আরএম-৪সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইটার জাহাজে তারা নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন উত্তাল নদীর স্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেও এই শ্রমিকরা ন্যূনতম নিরাপত্তা বা সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে এই পেশার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩০০টি পরিবার এবং প্রায় এক হাজার শ্রমিক ও তাদের স্বজন জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে “খাজা শিপিং লাইন (রায়হান এন্টারপ্রাইজ) সি লিঃ” নামের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তাদের বৈধ পেশায় অবৈধ হস্তক্ষেপ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, সিন্ডিকেটের সদস্যরা শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান, জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এমনকি শ্রমিকদের ধরে নিয়ে নির্যাতন ও ‘ইলেকট্রিক শক’ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘তেল চোর’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে রায়হান, মো. শাহানুর ও সাজ্জদসহ ১০ থেকে ১২ জনকে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কাজ বন্ধের চেষ্টা, নিয়মিত চাঁদা দাবি, শারীরিক হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। শ্রমিক নেতারা জানান, এর আগে একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং স্থানীয় প্রশাসন, ইপিজেড থানা, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দিন দিন তাদের ওপর চাপ ও হুমকি আরও বেড়ে চলেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের জীবিকা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। সাম্পান শ্রমিকদের মতে, কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ অস্তিত্ব সংকটে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শতাধিক পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং নদীকেন্দ্রিক এই সেবা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। *বিজ্ঞপ্তি

নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স