ঢাকা | বঙ্গাব্দ

‘ছাত্র’ থেকে ‘গুপ্ত’—লেখা বদলেই সিটি কলেজে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 21, 2026 ইং
  • পঠিত: ৫৬ বার
Overlay/Verification

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে একটি গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সকালে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সূচনা হয় একটি দেয়াললেখা ঘিরে। কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে পূর্বে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। পরে ওই লেখায় ‘ছাত্র’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘গুপ্ত’ লেখা হয়, ফলে পুরো বাক্যটি দাঁড়ায় ‘গুপ্ত রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতা এই পরিবর্তন করেন।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে, যদিও আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটলে কলেজ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করে।
চট্টগ্রাম কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। শিক্ষক ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
সংঘর্ষের বিষয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বিন সাব্বির অভিযোগ করেন, “ছাত্রদল অতর্কিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং আদর্শিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দীকি রনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন জানান, “দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
ঘটনার প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ চলমান ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এ ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামান্য একটি লেখা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় রূপ নেওয়া ঘটনাটি ক্যাম্পাসে বিরাজমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেরই বহিঃপ্রকাশ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স