স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়ো হাওয়া কিংবা কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিলবোর্ডটি ভেঙে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে এতিমখানার কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী ও মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড অপসারণে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বিলবোর্ড অপসারণের জন্য ভবন মালিককে একাধিকবার মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। পরে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই ধারাবাহিকভাবে তিনটি লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়। সর্বশেষ নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিলবোর্ড অপসারণ না করলে প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও এতিমখানার প্রধান মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে ১২০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা দিন-রাত এখানেই অবস্থান করে। বিলবোর্ডটি এতিমখানার খুব কাছেই রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। বিশেষ করে উত্তরি হাওয়া শুরু হলে কেঁপে উঠে ভবনটি। তখন আরো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা। বহুবার ভবন মালিককে বলেছি, লিখিত নোটিশও দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে ভবন মালিক আবু সামা (আবু) বলেন, “বিলবোর্ডটি আমার নিজের নয়। এটি একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়টি আমি তাদের জানিয়েছি এবং বিলবোর্ড অপসারণের জন্যও বলেছি। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজার পশ্চিম পাশের এই এলাকা প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষের চলাচলে মুখর থাকে। পাশাপাশি এতিমখানা, মাদ্রাসা, বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার ও মহাসড়ক একই স্থানে থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “একদিকে এতিমখানা, অন্যদিকে ১১ হাজার ভোল্টের ট্রান্সফরমার, সামনে মহাসড়ক। এর মাঝখানে এত বড় বিলবোর্ড ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের উচিত দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “কয়েক বছর ধরে বিলবোর্ডটি রয়েছে। কিন্তু এখন কাঠামোর অবস্থা নিয়েও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আছে। ঝড়ো বাতাসে এটি দুলতে দেখা যায়। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগে এটি অপসারণ করা প্রয়োজন।”
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সতর্কীকরণ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিলবোর্ড অপসারণে গড়িমসি জননিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলার শামিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি অপসারণ না করা হলে উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হবে। পাশাপাশি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমন স্পর্শকাতর স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং মহাসড়কের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বিলবোর্ডটি অপসারণ এবং এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
স্থানীয়দের ভাষায়, “দুর্ঘটনা ঘটার পর দায়ী খোঁজার চেয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি দূর করাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
Sarwar Rana