বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (তারিখ) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করেছিলেন।
তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তিনি জাতীয়ভাবে পরিচিতি লাভ করেন। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক সক্রিয় থাকা তোফায়েল আহমেদ একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি দলের একজন অভিভাবকতুল্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তার অবদান স্মরণ করে শোকবার্তা দিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে। আগামীকাল মরদেহ নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে জোহরের নামাজের পর ভোলা জেলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতাকে হারালো। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অবদান ও স্মৃতি দেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Sarwar Rana