মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স (MCU)-এর সবচেয়ে সম্মানিত এবং নৈতিকতার প্রতীক স্টিভ রজার্স, যিনি ক্যাপ্টেন আমেরিকা হিসেবে পরিচিত, তাকে কি এবার দেখা যাবে এক ভয়ঙ্কর খলনায়কের রূপে? ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এ হৃদয়গ্রাহী বিদায়ের পর আবারও পর্দায় তার ফিরে আসার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তবে এবার মুক্তির দূত হিসেবে নয়, বরং ধ্বংসের কারণ হিসেবে। বিশেষ করে আসন্ন ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ছবিতে স্টিভ রজার্সের এই অন্ধকার রূপান্তর মার্ভেলের সবচেয়ে বড় এবং মর্মান্তিক টুইস্ট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্টিভ রজার্স সর্বদা আশা, সততা এবং অটল নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তিনি সেই নায়ক যিনি সবসময় সঠিক কাজটি করার জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত। কিন্তু মার্ভেল কমিকসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই আদর্শ নায়কেরও একটি অন্ধকার দিক রয়েছে, যা এর আগে পর্দায় অনাবিষ্কৃত ছিল। ২০১৭ সালের সাড়া জাগানো কমিকস সিরিজ ‘সিক্রেট এম্পায়ার’-এ দেখানো হয় এক বিকল্প কাহিনি, যেখানে ক্যাপ্টেন আমেরিকা আসলে সন্ত্রাসী সংগঠন হাইড্রার একজন গুপ্তচর।
কমিকসের এই গল্পে, কসমিক কিউবের শক্তি ব্যবহার করে রেড স্কাল স্টিভ রজার্সের অতীতকে পরিবর্তন করে দেয়। এর ফলে রজার্স ছোটবেলা থেকেই হাইড্রার একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বেড়ে ওঠেন এবং তার বিশ্বাস হয়ে ওঠে যে, পৃথিবীকে সত্যিকারের শান্তি দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো হাইড্রার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।
এই সংস্করণে তিনি ‘হাইড্রা সুপ্রিম’ হিসেবে পরিচিত হন এবং প্রায় সফলভাবে সমগ্র আমেরিকা দখল করে একটি স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং নিজের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য এক ভয়ানক খলনায়কে পরিণত হন।
কমিকসের এই বিতর্কিত কিন্তু শক্তিশালী কাহিনি প্রমাণ করে যে, স্টিভ রজার্সকে খলনায়ক হিসেবে কল্পনা করাটা একেবারে অমূলক নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, সিনেমার পর্দায় কীভাবে এই রূপান্তর সম্ভব? উত্তরটি লুকিয়ে আছে মার্ভেলের বর্তমান মাল্টিভার্স সাগার মধ্যে।
যেহেতু বিভিন্ন মহাবিশ্বের দরজা এখন উন্মুক্ত, তাই মূল পৃথিবীর স্টিভ রজার্সকে খলনায়ক না বানিয়েও অন্য কোনো মহাবিশ্বের এক দুষ্ট ও দুর্নীতিগ্রস্ত ক্যাপ্টেন আমেরিকাকে সহজেই গল্পে নিয়ে আসা যায়।
এমনও হতে পারে যে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর শেষে স্টিভ রজার্স অতীতে ফিরে গিয়ে পেগি কার্টারের সঙ্গে জীবন কাটানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্তের ফলেই মাল্টিভার্সে বিপর্যয় বা ইনকারশন শুরু হয়েছে। কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, তার এই ব্যক্তিগত সুখের অন্বেষণই অজান্তে মহাবিশ্বের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা তাকে ডাক্তার ডুমের মতো খলনায়কদের মুখোমুখি করবে অথবা তাকেই খলনায়কে পরিণত করবে।
যদি স্টিভ রজার্স সত্যিই খলনায়ক হিসেবে ফিরে আসেন, তবে তা হবে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। স্যাম উইলসন (নতুন ক্যাপ্টেন আমেরিকা) এবং বাকি বার্নস (উইন্টার সোলজার)-এর মতো চরিত্রদের জন্য এটি হবে এক চরম মানসিক আঘাত। যে মানুষটিকে তারা আদর্শ মনে করতেন, যার দেখানো পথে তারা চলতেন, তার বিরুদ্ধেই তাদের লড়তে হবে—এই ধারণাটিই গল্পের গভীরতাকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেবে। একজন নায়কের নৈতিক পতন এবং তার সহযোদ্ধাদের মানসিক দ্বন্দ্ব ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-কে কেবল একটি অ্যাকশন-ধর্মী চলচ্চিত্র না রেখে, একটি আবেগঘন এবং মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত করার সম্ভাবনা রাখে।
যদিও এই সমস্ত কিছুই বর্তমানে তত্ত্ব এবং অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে, তবে কমিকসের ইতিহাস এবং মাল্টিভার্স সাগার সম্ভাবনাগুলো একত্রিত হয়ে স্টিভ রজার্সের এক অন্ধকার প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করছে।
যদি নির্মাতারা এই পথে হাঁটেন, তবে দর্শকরা এমন এক খলনায়ককে দেখতে চলেছেন যার উত্থান হবে মার্ভেলের সবচেয়ে বড় নায়কের পতন থেকে, এবং এটি নিঃসন্দেহে MCU-এর ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক ইনফো বাংলা
দৈনিক ইনফো বাংলা